মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং দারিদ্র্য হ্রাসের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠক।
সোমবার (১২ অক্টোবর) শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী এই বৈঠক চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে ১৯১টি দেশের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা।
আইএমএফের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি, প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও এর অর্থনৈতিক প্রভাবও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
উদ্বোধনী অধিবেশনে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদনের বরাতে তিনি জানান, এআই প্রযুক্তির হার্ডওয়্যার সরবরাহকারী এশীয় অর্থনীতিগুলো এরই মধ্যে এ ধরনের বিনিয়োগের সুফল পাচ্ছে।
জর্জিয়েভার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এআই খাতে বিনিয়োগের ফলে উন্নত এশীয় অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। উদীয়মান এশীয় অর্থনীতিতে এ বৃদ্ধির সম্ভাবনা শূন্য দশমিক ২ থেকে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট।
তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও এআই খাতে বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ভূমিকা রাখছে। এআইয়ের দ্রুত বিস্তারকে ধীরগতিতে এগিয়ে আসা সুনামির সঙ্গে তুলনা করে তিনি সতর্ক করেন, এই প্রযুক্তি কর্মসংস্থান, শিক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সরকারের কর আদায়ের ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘ মেয়াদে এআইয়ের প্রভাবে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরির ধরন বদলে যেতে পারে। কিছু কাজের গুরুত্ব কমতে পারে, আবার কিছু চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়তে পারে। তবে নতুন দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কৃষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষকদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে ছোট পরিসরের এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
অন্যদিকে, সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট থারমান শানমুগারত্নম এআইয়ের কারণে স্নাতকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের ব্যবধান বাড়ছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
এদিকে, আইএমএফের ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত নতুন পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আগের জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এই হার ধরা হয়েছিল ৩ শতাংশ। এআই খাতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সরকারি ঋণ বৃদ্ধিকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
এবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও স্পেনের অর্থমন্ত্রী আরকাদি এস্পানিয়াসহ কয়েকজন মন্ত্রীর অংশ না নেওয়ার কথা রয়েছে।
